সম্পাদকীয় নীতিমালা ও সম্পাদনা পদ্ধতি
মতভেদ একটি ক্রিটিক্যাল, সেমি-আকাদেমিক অ্যাক্টিভিস্ট প্ল্যাটফর্ম—যাকে অ্যাক্টিভিজমভিত্তিক পাবলিক কমিউনিকেশন স্পেস বলা যেতে পারে। মতভেদ এর মৌলিক উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সামাজিক পাটাতন তৈরিতে অবদান রাখা, যার ভিত্তি হচ্ছে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়নির্ভর চিন্তাধারার চর্চা ও প্রসার। সেই লক্ষ্যেই মতভেদ উল্লিখিত অবদান রাখবে। এই বিবেচনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মতভেদ-এ প্রকাশযোগ্য লেখার জন্য নিম্নোক্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক. নীতিমালা
১। যা আমরা উৎসাহিত করি:
১.১ সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অসাম্য এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ।
১.২ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ও নারীর অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকা।
১.৩ জাতিগত, ধর্মীয়, লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সমর্থন।
১.৪ ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন।
১.৫ গণতন্ত্রের পথে অন্তরায় রাষ্ট্র-লালিত সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
২। যা আমরা নিরুৎসাহিত করি:
২.১ যেকোনো ধরনের নারীবিদ্বেষী, জাতিবিদ্বেষী বা বর্ণবাদী বক্তব্য বা উপস্থাপনা।
২.২ ধর্মীবিশ্বাসীদের ধর্মীয় চিহ্ন/ আইকন বা আচার-অনুশীলনের প্রতি সরাসরি আঘাত হানে—এমন বক্তব্য বা উপস্থাপনা।
২.৩ ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মানজনক বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়—এমন বক্তব্য বা উপস্থাপনা।
২.৪ প্রান্তিক ও সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর প্রতি আক্রমণাত্মক, ঘৃণাত্মক, অবমাননাকর বা অবজ্ঞাসূচক বক্তব্য বা উপস্থাপনা।
২.৫ গুজবনির্ভর, অসত্য বা অর্ধসত্য তথ্যের প্রচার; এবং ধারণা, অনুমান বা কল্পনার ওপর ভিত্তি করে করা ঢালাও বক্তব্যকে সত্য ঘটনা, কাহিনি বা ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন।
২.৬ অন্যের লেখা বা তার অংশবিশেষ লেখার মাঝে কৃতজ্ঞতা স্বীকার ছাড়াই হুবহু বা নিজ ভাষায় উপস্থাপন (প্লেজিয়ারিজম)।
৩। পদ্ধতি
৩.১ লেখক সরাসরি ওয়েবসাইটে লগইন করে (প্রথমবার নিবন্ধন প্রযোজ্য) লেখা জমা দিতে পারবেন। জমাকৃত লেখা “বিবেচনাধীন” তালিকায় থাকবে। এছাড়া, নেটওয়ার্কের ইমেইল (ndb.org24@gmail.com) বা সম্পাদকমণ্ডলীর কোনো সদস্যের মাধ্যমেও লেখা পাঠানো যাবে।
৩.২ মতভেদ-এ প্রকাশের জন্য পেশকৃত প্রতিটি লেখা সম্পাদনা পরিষদের অন্তত একজন সদস্য রিভিউ করবেন।
৩.২.১ সম্পাদনা পরিষদের রিভিউকারী সদস্য প্রথমে নিশ্চিত করবেন, লেখার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনাভঙ্গি সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না। যদি মূল বক্তব্য, দাবি বা সিদ্ধান্ত নীতিমালার পরিপন্থী হয়, তবে লেখাটি প্রকাশের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
৩.২.২ তবে লেখার মূল বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হলেও উপস্থাপনায় (যেমন: উপাত্ত, উদাহরণ, উপমা ইত্যাদি) আপত্তিকর কিছু থাকলে তা সংশোধনের জন্য লেখককে পরামর্শ দেওয়া হবে। লেখক সংশোধন করলে লেখাটি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রকাশযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
৩.৩ রিভিউ সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য সংশ্লিষ্ট লেখাটি মতভেদ-এ প্রকাশ করবেন।
আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের লেখক, পাঠক ও অংশীদারগণ এই সম্পাদকীয় নীতিমালার এবং সম্পাদনা পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন এবং একটি মানবিক, সহনশীল, ন্যায়সঙ্গত এবং গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করবেন।